Knock us for your business/company articles/content & SEO: 01823-660266

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতি কিরুপ (১৯ আগষ্ট, ২০২১ ইং) ? অর্থনীতির চাকা কিভাবে তরান্বিত করা যায় ? এই পরিস্থিতিতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশাজীবী মানুষের বাস্তব চিত্র:

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতি কিরুপ (১৯ আগষ্ট, ২০২১ ইং) ? অর্থনীতির চাকা কিভাবে তরান্বিত করা যায় ? এই পরিস্থিতিতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশাজীবী মানুষের বাস্তব চিত্র:

অর্থনীতি কী ?

অর্থনীতি কী ?

অর্থনীতি শব্দটির ইংরেজী অর্থ হল Economics।Economics শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ ‘Oikonomia’ থেকে যার অর্থ হল গৃহস্থালী পরিচালনা।আর একটি গৃহস্থালী পরিচালনা করার জন্য যথেষ্ট ও পর্যাপ্ত পরিমান অর্থের প্রয়োজন। তাই একটি পরিবার ও এর গৃহস্থালী পরিচালনা থেকে শুরু করে মানুষের সামগ্রীক চাহিদা, অভাব, উপযোগীতা ও যোগানের লক্ষ্যে অর্থ বা সম্পদ ব্যবহারের মূল নীতিকেই অর্থনীতি বলা হয়।

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতি কিরুপ ?

বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই হতাশাব্যাঞ্জন। বাংলাদেশের রাজস্ব আয়ের প্রধান খাত হল প্রবাসী আয়, তৈরী পোশাক শিল্প, পাট ও চামড়া দ্রব্য, আইসিটি খাত এবং এছাড়াও আরও কিছু কৃষিজ পণ্য।বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে সকল প্রকার রপ্তানি আয়ের খাত বন্ধ। স্কুল, কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ প্রায় দের বছর যাবৎ। শিক্ষক শিক্ষিকাগণ বেকার। বিকল্প আয়ের নেই কোন সু-ব্যবস্থা। পুরো ব্যবসা জগৎ এখন পতনের মুখে। গাড়ির চাকা না ঘুরলে যেমন পরিবহন খাত পঙ্গু তেমনি অর্থনীতির চাকা না ঘুরলে ব্যবসা-বাণিজ্যের খাত অচল।অর্থনীতির আর একটি গোপনীয় সূত্র হল: ‘আপনি যদি কোন পণ্যের সঠিক উপযোগ সৃষ্টি করতে পারেন তবে ঐ ব্যবসা বা পেশায় আপনার সাফল্য নিশ্চিত’। এমন আরও গোপন টিপস্ পেতে আমাদের এই পেজটিতে ভিজিট করুন:
 https://selltoearn.com/article/whatisbusiness.php

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতেকে আরও চাঙ্গা করতে যা প্রয়োজন:

 প্রথমত সকল প্রকার শিল্প-কারখানা, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান সহ সরকারি ও বেসকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে হবে অবিরামভাবে।
 করোনা পরিস্থিতিতে দূরত্ব বজায় ও স্বাস্থ্যবিধী মেনে যেকোন কাজে নিয়োজিত হতে হবে।
 বাংলাদেশের প্রতিটি খাতে সরকারের অর্থ বরাদ্দ করতে হবে আরও বেশি আর্থনৈতিক প্রবিদ্ধি বাড়ানোর জন্য।
 কর ফাঁকি, কালো টাকা পাচার, অবৈধ ব্যবসার আমদানী ইত্যাদি বন্ধের লক্ষ্যে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।
 এছাড়াও বাঙ্গালীকে উন্নত দেশসমূহের ন্যায় আরও বেশি পরিশ্রমী হতে হবে। প্রয়োজনে কর্ম ঘন্টা বাড়িয়ে দিয়ে বেশি বেশি অর্থ উপার্জন করতে হবে। বেশি বেশি অর্থ উপার্জন করলেই অর্থে সুষ্ঠু নীতি বহাল ও বাস্তবায়িত হবে। যতদূর সম্ভব দেশীয় উৎপাদিত পণ্যদ্রব্যে ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়ে বিদেশী পণ্যের ব্যবহার কমাতে হবে। তাহলেই একমাত্র সম্ভব দেশের অর্থনীতির দৃষ্টিনন্দন সমৃদ্ধি।

আমরা লক্ষ্য করলে দেখতে পাব যে, বিশ্বের নেতৃত্বস্থানীয় দেশসমূহ তাদের অর্থনীতিকে বলিষ্ট রাখতে কতটা ব্যস্ত ও সতর্ক হয়ে পড়েছিল। কারণ তারা জানেন দেশের অর্থনীতিতে ভঙ্গুর অবস্থা হলে বিশ্বের শীর্ষ দেশের নামের তালিকা থেকে তাদের দেশের নাম কাটা পরবে। এবং তারা দিনে দিনে আরও বেশি গরিব হয়ে পরবে।আমরা জানি ‘Money begets money’ অর্থাৎ টাকায় টাকা আনে। ঠিক তেমনি পুঁজিবাদীরা আরও পুঁজি বা অর্থ উপার্জন করে কিন্তু যারা গরিব ও নিম্ববিত্ত তারা দিনে দিনে আরও বেশি শোষিত হয়।

কর্মস্থলে কর্মীদের বৈষম্যের একটি অর্থনৈনিক প্রতিচ্ছবি:

একটি কর্মস্থলে বা কোন অফিস কিংবা কোম্পানিতে আমরা দেখতে পাই যে সেখানে তিন শ্রেণীর কর্মী বিদ্যমান। যেমন:
1. উর্ধ্বতন কর্মকর্তা

2. মধ্যস্তরের কর্মকর্তা

3. এবং অধঃস্তন কর্মকর্তা

উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক এবং মালিক পক্ষের ব্যক্তিদের নিকট সবসময় নিদেজ সাফল্য এবং কৃতিত্ব প্রদর্শনে ব্যস্ত থাকেন। এবং তারা মধ্যস্তরের কর্মীদের শাসন-প্রেরণা কিংবা বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ আদায় করে নেন।ঠিক তেমনে মধ্যস্তরের কর্মীগণ একই উপায়ে অধঃস্তন কর্মীদের নিকট থেকে কার্য আদায় করে নেন। কিন্তু প্রশ্ন হল এই অধঃস্তন ও মধ্যস্তরের কর্মীর অভিযোগ কিংবা পরামর্শ কি মালিক শ্রেণী অথবা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শ্রেণীর নিকট উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পৌঁছাতে দেন। এই প্রশ্নটির উত্তর আমার জানা নেই। তাহলে পরোক্ষভাবে আমরা এটিও লক্ষ্য করতে পারি যে সকল ক্ষেত্রে একটি বৈষম্য প্রতিনিয়ত বিরাজমান।

এবার আসা যাক সমাজে বসবাসরত মানুষের মধ্যে শ্রেণীবৈষম্যেল প্রভাব কিরুপ এবং এর প্রতিকারের ব্যবস্থা:

মানুষকে বলা হয় সৃষ্টির সেরা জীব।সৃষ্টিকর্তা মানুষদের এমন ভাবেই সৃষ্টি করেছেন যার মোকাবেলা অন্য কোনো প্রানী করতে পারবে সেটা তাদের সাধ্যের বাহিরে। কিন্তু মানুষেরাই আজ মানুষদের মাঝে বিভিন্নভাবে দ্বন্দের সৃষ্টি করছে।একজনের সাথে আরেকজনের মধ্যে চলছে অর্থের লড়াই, হচ্ছে বিভন্ন শ্রণীর মোকাবেলা। আর সেটা করছে আমাদেরই তৈরি করা সমাজব্যবস্থা। সমাজে তথাকথিত জ্ঞানী ব্যক্তির অভাব নেই বললেই চলে। তাদের কাছে জ্ঞানের ভান্ডার অঢেল। ওনারা বিভিন্নভাবে জ্ঞান সঞ্চয় করেন এবং জ্ঞানগুলো সমাজে বিলিয়ে দেন। আর সেই জ্ঞানগুলোকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি। আর এসব নিয়ম-নীতির মধ্যে রয়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় যা মানুষদের মাঝে ভেদাভেদ নামক একটা দেয়াল তৈরি করেছে। সেখানে মানুষদের মাঝে রয়েছে উচু ও নিচু শ্রেণী।

সমাজে মানুষদের বিভিন্ন শ্রেণীবিভাগ:

আমরা যে সমাজে বাস করি সেখানে জ্ঞানী ব্যক্তিদের কিছু বানী শুনতে পারি আমরা যে, মানুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ হয়না, আমরা সবাই মানুষ সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড়পরিচয়।কিন্তু সেই ব্যক্তিরাই আবার সমাজে মানুষদের তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করেছেন।যেমন :

❏উচ্চবিত্ত

❏মধ্যবিত্ত

❏নিম্নবিত্ত

এই প্রতিটি শ্রেণীতে ভাগকরা মানুষরা কোনো না কোনো শ্রেণীর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত আছে।আশ্চর্যের বিষয় হলো মানুষদের তিন শ্রেণীতে ভাগ করলেও এদের গঠন একই কিন্তু আসল ভেদাভেদ হচ্ছে অর্থে, নিমিত্তে, উচ্চবিলাসিতায়, গাড়ী আর বড় বাড়ি নিয়ে।

এখন আমরা জানবো কিসের ভিত্তিতে মানুষদের শ্রেণীবিন্যাস করা হয়??

যার যার উপার্জনের উপর নির্ভর করে মানুষদের তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়।
❏যারা লাখ-কোটি টাকা উপার্জন করেন তাদের উচ্চবিত্ত বলা হয়।
❏যারা হাজার-লাখের কম বা লাখে পৌঁছানো যায়না এমন উপার্জন করেন তাদের মধ্যবিত্ত বলে।
❏ এবং অবশেষে যারা একশত- হাজারে পৌঁছানো অব্দি সামর্থ্য অর্জন করে তাদের নিম্নবিত্ত বলে।হয়তো বছরে তিন-চার বার এই নিম্ন বিত্ত শ্রেণীর মানুষদের হাজার টাকা দেখার সৌভাগ্য হয় বা ওনারা উপার্জন করতে সক্ষম হন। আর এসব শ্রেণীতে ভাগ হওয়ার ফলেই হয়তো সবচেয়ে অবহেলিত হচ্ছে নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্যরা।যাদের সম্মান আমাদের সমাজের কাছে কিঞ্চিত পরিমান।

নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্যরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী কিভাবে তাদের জীবন অতিবাহিত করছেন ??

উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা তাদের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হলেও নিম্নবিত্ত পরিবারের চাহিদা তুলনামূলক কম তথাপি নেই বললেই চলে।তিন বেলা খাবার খেয়ে, পরিধান করার মতো বস্র পেলেই ওনারা আনন্দে ভাসে।হয়তো এটাই নিম্নবিত্তদের জন্য সর্বচ্চো সুখ, কিন্তু এটুকু চাহিদা মেটানোর সাধ্য ওনাদের থাকেনা। এমনকি সবসময় এই চাহিদা মেটানোর সুযোগ হয়ে ওঠেনা নিম্নবিত্তদের। তারপরও কোনো অভিযোগ ছারাই দিব্যি জীবন যাপন করছে।কঠোর পরিশ্রম দিয়ে যতটুকু আয় করাযায় তিনবেলা নাহলেও দুবেলা অন্নগ্রহণ করে দেহটাকে সুস্থ রাখতে।

কথায় আছে “পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি”

যদিও এইকথাটা কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সঠিক কিন্তু সবারক্ষেত্রে নয়। সেটা নিম্নবিত্তদের পরিস্থিতি উপলব্ধি করে বোঝাযায়।তাদের কাছে এই কথার মর্ম ঠিক কতটুকু একমাত্র তারাই ব্যক্ত করতে পারবে।

নিম্নবিত্তদের এই করোনা পরিস্থিতিতে কিরুপ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে ??

নিম্নবিত্তদের আয় খুবই সীমিত। তারা যতটুকুই পরিশ্রম করে সারাদিনে তার তুলনায় অর্থ উপার্জন হয় খুবই কম তারপরও দিনশেষে সেটা নিয়েই ঘরে ফিরতে হয় তাদের। কিন্তু এই করোনা পরিস্থিতির জন্য নিম্নবিত্তদের কাজ পাওয়াটাই যেন দুঃসাধ্য হয়ে পরেছে। কোথাও কাজের কোনো গতি নেই। যারা রিকশা, অটো, ভ্যান চালায় তারা কিছু আয় করতে পারলেও।যারা দিন মজুর, কৃষক, শ্রমিক তাদের কাছে এই লকডাউন সময়ে কাজ নেই বললেই চলে। কোনো রকম এক বেলা অন্নগ্রহণ করলেও অনেক দিন এমনও যায় খালিপেটে কাজের জন্য হণ্য হয়ে ঘোরে কিন্তু কাজের নাগাল পাওনা যায়না। কাজ পেলেও ততটুকু অর্থ উপার্জন হয় না যা দিয়ে দুবেলা নিজের পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিতে পারবে। এমনকি গুরুতর অসুস্থ হলেও চিকিৎসা করার কোনো উপায় নেই। যেখানে অন্নগ্রহণ করার ক্ষমতা নেই সেখানে ডাক্তার দেখিয়ে ঔষধ কিভাবে খাবে। এমন অনেক পরিবার আছে যারা এই করোনা কালীন আপনজনদের হারিয়েছে, পরিবারের একমাত্র উপার্জন ক্ষম সদস্যকে হারিয়েছে।আর্তনাদ, শোনার মত কেউ নেই অবহেলায় দিন শেষে সব অভিযোগ যেন চোখের জল হয়ে গড়িয়ে পড়ে।

কিভাবে আমরা এই করোনা পরিস্থিতিতে নিম্নবিত্তদের সাহায্য করতে পারি ??

❏ কোনো রকম লকডাউনের পূর্বে নিম্নবিত্তের কাজের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
❏ নিম্নবিত্তদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমান খাবার পৌঁছে দেওয়া যাতে লকডাউনে খাবার নিয়ে তাদের কোনো ভোগান্তি না হয়।
❏ গুরুতর অবস্থায় তৎক্ষনাৎ চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
❏ থানা বিত্তিক কয়েকজন উচ্চবিত্তদের সাহায্যে নিম্নবিত্তদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধ বিনামূল্যে সরবরাহ করার ব্যবস্থা করা।
❏ শীতকালে প্রয়োজনীয় বস্র বিতরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
❏ সকল নিম্ন বিত্তদের মোবাইলের মাধ্যমে যোগাযোগের আওতায় নিয়ে আসা।
❏ সাপ্তাহিক বা মাসিকভাবে তাদের ভালো-মন্দের খবরাখবর নেওয়ার পদ্ধতিতে অবলম্বন করা।

এসব উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে নিম্নবিত্তদের কিছুটা সাহায্য করা যেতে পারে।

পরিশেষে...

বাংলাদেশ দরিদ্র দেশ হলেও অনেক উচ্চবিত্ত পরিবার আছে এদেশে। উচ্চবিত্তদের অপ্রয়োজনীয় কিছু চাহিদা হ্রাস করে এবং উচ্চ বিলাসিতায় তাদের যে অর্থ ব্যয় হয় সেই অর্থ যদি নিম্নবিত্তদের জন্য ব্যয় করে কাজে লাগানো হয় তাহলে হয়তো এই অর্থগুলো প্রকৃত মূল্যে মূল্যায়িত হতো। উচ্চবিত্তরা চাইলেই নিজ নিজ এলাকা, গ্রামে, ইউনিয়নে, থানা ও জেলা-উপজেলায় কিছু অর্থ দিয়ে নিম্নবিত্তদের সাহায্য করতে পারে লকডাউন সময়ে। এবং বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে তাদের সহায়তা করার কৌশল অবলম্বন করতে পারে। তাতে দেশে নিম্নবিত্তরা পরিশ্রম করে তাদের পরিবারকে নিয়ে তিনবেলা খাবার খেয়ে ভালো ভাবে জীবনযাপন করতে পারবে ফলে দারিদ্রতা হ্রাস পাবে।

Next Page

Home Page