Knock us for your business/company articles/content & SEO: 01823-660266

হীণমন্যতা ও মানসিক অবসাদ কি ? এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় কি ??

হীণমন্যতা ও মানসিক অবসাদ কি ? এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় কি ??

হীণমন্যতা ও মানসিক অবসাদ কি ? এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় কি ??

ভূমিকা.

আমাদের জীবন খুব বেশি বড় নয়। জন্ম যখন নিয়েছি কোনো না কোনো সময় মৃত্যু আমাদের জন্য অবধারিত। এই জন্ম এবং মৃত্যুর মাঝে আমরা যেটুকু সময় পাই সেই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে জীবনকে সুস্থ রেখে সঠিক কাজে ব্যবহার করে জটিল সময়গুলো অতিক্রম করে ভালো জীবন যাপন করার যে লড়াই সেটাই সবচেয়ে কঠিন। জীবনের এই লড়াইয়ে জরিয়ে থাকে আমাদের শারীরিক পরিশ্রম, প্রশান্তি ও মানসিক চেতনা, ইচ্ছা, আকাঙ্খা, স্বপ্ন, আবেগ ইত্যাদি এসবের মাধ্যমে মানুষ নিজেদের বাচিঁয়ে রাখে। এক অজানা গন্তব্যের দিকে ছুটে যায় অনিশ্চিত জীবনকে নিশ্চয়তায় পরিনত করতে। সেই পথে থাকে নানা রকম বিপদ, ভয়, কষ্ট, পরিশ্রম, ভালো কিছু করার তাগিদ, জীবনকে সুন্দর ভাবে সাজানোর ইচ্ছা যা মানুষকে বেচেঁ থাকার সাহস যোগায়। তবে সবার জীবনে সফলতা বিষয়টি কাম্য নয়। কেননা ব্যর্থতা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিরাজ করে। কিন্তু ব্যর্থতাই যদি না থাকে তাহলে জীবনে সফলতার মূল্য কতটুকুই বা বোঝা যায়। কিন্তু সবাই সেই ব্যর্থতা কে গ্রহন করার মতো মানসিক শক্তি নিজের মধ্যে প্রেরণ করতে পারেনা। ফলে মানুষরা হীণমন্যতায় ভোগে বা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে, সব কাজে সফল হওয়ার আশা, আকাঙ্খা নিমিষেই যেন নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তখন শারিরীক ভাবেও সব অচল হয়ে পড়ে। কারন মানসিক চিন্তা ভাবনা থেকে আমরা যেকোনো কিছু করার শক্তি পাই, সাহস পাই। ফলে যখন আমারা মানসিক ভাবে নিজেদের দুর্বল করে ফেলি তখন বেচেঁ থাকার ইচ্ছেটাও ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যায়। তবে এমন অনেকেই আছেন যারা এই ব্যর্থতাকে মেনে নিয়ে এর মাধ্যমে নিজের মধ্যে নতুন শক্তির সঞ্চার করে এবং পুনরায় জীবনে সফলতার পথে এগিয়ে যায়।

কিন্তু কিভাবে সেটাই আমরা জানবো আজ এই কন্টেন্টির মাধ্যমে..... ""বেসরকারি সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন"" কর্তৃক শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা সম্পর্কিত জড়িপ হতে প্রাপ্ত তথ্য.... করোনা পরিস্থিতির মধ্যে লক্ষ্য করা যায় বেশির ভাগ ছাত্র-ছাত্রী মানসিক বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। তাদের মধ্যে ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা বিদ্যমান এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ ১৮ থেকে ২৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা। অনিশ্চয়তার জীবনকে কেন্দ্র করে, পড়ালেখা, চাকুরি, ভবিষ্যত পরিকল্পনা এসব কিছু মিলিয়ে সবারই সাধারন জীবন যাপন ব্যপকভাবে বাধাগ্রস্থ হয়েছে যার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে শিক্ষার্থীরা, বলা যায় তরুন সমাজ আজ হুমকির কবলে যারা আমাদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ তাদের জীবনই এক প্রকার দুঃশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে কেটেছে এই দেড় বছর। আর দেশে বৃদ্ধি পেয়েছে বাল্যবিবাহ।

☑ ২০২১ সালের ১২ থেকে ২৬ সেপ্টম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে একটি জড়িপ পরিচালিত হয়। সেখানে বাংলাদেশের ৯২ টি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তাদের মানসিক অবস্থার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, ২ হাজার ৫৫২ শিক্ষার্থী নিজেদের অবস্থা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। ৮৪ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী মানসিক ভাবে হতাশাগ্রস্থ যার ফলে তাদের মধ্যে ৪ ভাগের ৩ ভাগ ছাত্র-ছাত্রী পড়ালেখার আগ্রহ হারিয়েছেন। এমনকি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনা প্রবল ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
♻ ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীরা মানসিক সমস্যার আওতায় রয়েছে সেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৬১ শতাংশ নারী।
♻ তৃতীয় লিঙ্গের ১ জন। ♻ গ্রামে থাকা মানসিক ভাবে হীণমন্যতায় ভোগা শিক্ষার্থীদের হার ৮৬ দশমিক ২ ভাগ।
♻ মানসিক সমস্যা, ভেঙে পড়া, হতাশাগ্রস্থ হওয়া, হীণমন্যতায় ভোগা এসব কিছু বিশ্লেষন করে দেখা যায় পুরুষ শিক্ষার্থীর তুলনায় নারী শিক্ষার্থীর হার ৭ শতাংশ বেশি।

এখন আমরা জানবো কিভাবে মানসিক চিন্তা-ভাবনা আমাদের জীবনে প্রভাব ফেলে ??

মানসিক চিন্তা-ভাবনা এমনই একটি বিষয় যা আমাদের নিজে থেকে নিয়ে আসার প্রয়োজন পড়ে না। যে কোনো ক্ষেত্রে এমনকি যে কোনো বিষয়ের জন্য মস্তিষ্ক থেকে মানসিক চিন্তা-ভাবনা আসতে পারে। যদি আমরা সেটা নাও চাই। বলা যায় এটি সৃষ্টিকর্তার তৈরি আমাদের দেহের এমন একটি অংশ যা প্রকৃতিগত ভাবে সেচ্ছায় কাজ করে। যার মধ্যে সৃষ্টিকর্তা ছাড়া অন্য কারো হস্তক্ষেপ নেই। যদিও প্রযুক্তি এখন অনেক উন্নত যার মাধ্যমে অনেক কিছুই করা যায়। মস্তিষ্কের সমস্যা বা মানসিক অবনতির জন্য নানা রকম চিকিৎসা রয়েছে দেশ-বিদেশে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাছে রয়েছে আধুনিক ও উন্নত যন্ত্র বা মেশিন। যার সাহায্যে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে চিকিৎসা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, টেকনোলোজি এসব কিছুই কাজ করেনা। যদি না সৃষ্টিকর্তা চান। মানসিক চিন্তা-ভাবনা আমাদের জীবনে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলতে পারে ??

আমরা যদি চাই যে আমরা সুস্থ সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করবো। তাহলে প্রথমেই যেদিকে খেয়াল রাখতে হবে সেটি হচ্ছে আমাদের মস্তিষ্ক। এই মস্তিষ্ক আমাদের দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন একটি অংশ যার মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন চিন্তা-ভাবনার সঞ্চালন করতে পারি। কারন মস্তিষ্ক থেকেই আমরা মানসিক চিন্তা-ভাবনা করার ক্ষমতা পেয়ে থাকি। যদি আমাদের এই চিন্তা-ভাবনা করার ক্ষমতা না থাকে বা কোনো ভাবে সেটার সঞ্চালনে বাধাঁর সৃষ্টি হয় তখনই মানুষ নিজের বোধ-বুদ্ধি, বিবেক সব কিছু হারিয়ে ফেলে। যা ধীরে ধীরে আমাদের শারিরীক কার্যকলাপে প্রভাব ফেলে। আর যখন আমাদের মানসিক ও শারিরীক অবস্থার অবনতি ঘটে তখন বেচেঁ থাকাটা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে শারিরীক ও মানসিক অবনতির কারনে বিভিন্ন দিক দিয়ে হতাশা, কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়। এমনকি আমাদের সবচেয়ে কাছের মানুষ পরিবার, আত্মীয়স্বজন সবাই একসময় বিরক্তি প্রকাশ করে যার ফলে মনোবলও হারিয়ে যায়। বিভিন্ন চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হয়। হয়তো অনেকে এই সময়ে চিকিৎসা নেওয়ার মতো অবস্থায় নাও থাকতে পারে। আবার অনেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। অনিশ্চয়তার এই সময় গুলো অতিক্রম করাটা তখন জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেন্জ হয়ে দারায়। ফলে বোঝা যায় মানসিক চিন্তা-ভাবনা আমাদের জীবনে সবটুকুতে বিরাজ করে যার প্রভাবে আমাদের নিশ্চিয়তার জীবন অনিশ্চয়তায় পরিনত করতে পারে।

কি কি কারনে মানুষ হীণমন্যতায় ভোগে বা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে ??

পরিবার, সমাজ নিয়ে আামাদের বসবাস। এর মধ্যে রয়েছে নানা রকম মানুষ যাদের মধ্যে চিন্তা-ভাবনা, ইচ্ছা, আকাঙ্খা, আবেগ, বিবেক, মন-মানসিকতা, আচরনের মধ্যে রয়েছে অনেকভিন্নতা বিদ্যমান। তাই এসব কিছু মিলিয়ে একে অন্যের সাথে মিলেমিশে বছরের পর বছর বসবাস করা খুব একটা সহজ কাজ নয়। কিন্তু তারপরও মানুষ নানা রকম জটিলতা অতিক্রম করে জীবন যাপন করছে। সেখানে এমন নানা রকম ঘটনা ঘটে সেটা হোক সমাজে, পরিবারে বা আমাদের আশেপাশে। সেই ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে ভালো বা মন্দ দুটোরই প্রভাব রয়েছে মানুষের মধ্যে। এটা হতে পারে শারিরীক ভাবে প্রভাব ফেলছে নয়তো মানসিক ভাবে। বেশির ভাগ সময় মানুষ হীণমন্যতায় ভোগে বা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে নিজের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে। এখন আমরা জানবো কিভাবে এবং কি কারনে মানুষ হীণমন্যতায় ভোগে বা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে.. কারন গুলো নিম্নে দেওয়া হলো.....

❏ পরিবার থেকে পাওয়া দুঃখ-কষ্ট, খারাপ আচরন, কটু কথা।
❏ বিনা কারনে অপমান, অবাঞ্চিত প্রশ্ন, ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।
❏ বাবা - মায়ের থেকে প্রয়োজনীয় সময় পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়া, ফলে হীণমন্যতায় ভোগা।
❏ অনেক দিন যাবত শারিরীক অসুস্থতা।
❏ পারিবারিক অশান্তি, ঝামেলা।
❏ অর্থের অভাব বা পরিবারে অর্থনৈতিক সংকট।
❏ প্রতিষ্ঠানে কাজে চাপসৃষ্টির ফলে কাজ থেকে অবসর না পাওয়া।
❏ অর্থের তুলনায় অধিক পরিশ্রম।
❏ বিভিন্ন কাজে ব্যর্থতা।
❏ চাকুরি বা ব্যবসায় নিয়ে হতাশা।
❏ ভালো বেতনে চাকুরি করতে না পারা।
❏ ব্যবসায়ের লোকসানের দায়ভার নেওয়ার পর্যাপ্ত ক্ষমতা না থাকা।
❏ ভালো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় না থাকতে পারা।
❏ অন্যদের মতো দামি পোশাক পরিধান করতে না পারা, দামি মোবাইল ব্যবহার করতে না পারা, দামি গাড়ি এবং বড় বাড়ি না থাকা ইত্যাদি। এরকম আরো অনেক কারনের জন্য মানুষ মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে। মানুষের মন এবং মস্তিষ্ক দুটোই খুব নাজুক ও নমনীয় যার মধ্যে সব সহ্য করার ক্ষমতা থাকলেও একসময় সেই সহ্য শক্তির অবসান ঘটে যা মানুষের মানসিক ও শারিরীক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

হীণমন্যতায় ভুক্তভোগী হলে বা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়লে কি হতে পারে ??

❏ কর্মে মনোযোগ ব্যহত হতে পারে। ❏ কাজে বা যেকোনো বিষয়ে গতি হ্রাস পেতে পারে।
❏ সবকিছু থেকে নিজেকে আলাদা রাখার ইচ্ছা জন্ম নিতে পারে।
❏ জনসমাগম ছেড়ে একা এবং দূরবর্তী স্থানে বসবাস করার সিদ্ধেন্তে উপলব্ধ হতে পারে।
❏ মন-মেজাজ খিটখিটে ও তিরিক্ষি হয়ে উঠতে পারে।
❏ পরিবারের কথা অমান্য করে অবাধ্য হতে পারে।
❏ অজান্তেই বেআইনি কাজে লিপ্ত হতে পারে।
❏ নেশায় আশক্ত হতে পারে।
❏ ঝুঁকিযুক্ত কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে।
❏ ভালো কাজ করার আগ্রহ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
❏ ভালো মন্দের মধ্যে পার্থক্য বোঝার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে।
❏ জীবনের সবকিছুই অর্থহীন মনে হতে পারে।
❏ মন-মানসিকতা ক্রমশ খারাপের দিকে চালিত হতে পারে। এরকম ভাবে একটা সময় মানুষ নিজের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে, বিবেক কাজ করা বন্ধ করে দেয় এবং মানুষটি মানসিক ভাবে বিপাকগ্রস্থে পরিনত হয় যার ফলে মৃত্যুও হতে পারে ।

হীণমন্যতায় ভোগা বা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ার বিষয়টি পরিবারের উপর ও শারিরীক অবস্থার উপর কি কোনো প্রভাব ফেলে ??

হ্যাঁ, অবশ্যই । কারন আমরা সর্বদা কারো না কারো সাথে বসবাস করে থাকি। সেটা হতে পারে বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, যাদের সাথে আমরা পরিবারের মতোই থাকি। মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ার ফলে আমাদের আচরন, কথা-বার্তা, মিলেমিশে থাকার ধরন এসবের মধ্যে এক অদ্ভুদ পরিবর্তন হয়ে থাকে সেই সুবাধে পরিবারের উপর সেটা প্রভাব ফেলে । আর যদি শারিরীক দিক দিয়ে প্রভাবের কথা আসে তাহলে বলা যায়, একটা মানুষের মানসিক অবস্থা যখন ক্রমশ অবনতির দিকে ধাবিত হয় তখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় সেই মানুষের শারিরীক অবস্থা। তখন মানসিক অবস্থার পাশাপাশি শারিরীক ভাবেও মানুষটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। এমনকি তখন দুঃশ্চিন্তায় শারিরীক ভাবে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কেননা চিকিৎসকের মতে মানুষের শারিরীক অসুস্থতার ৬০-৭০ শতাংশ কারন থাকে মানসিক অসুস্থতা, দুঃশ্চিন্তা, দুর্বলতা। যেমন : " থায়রয়েড " খুবই পরিচিত একটি নাম। বর্তমান সময়ে বেশির ভাগ ব্যক্তিরা থায়রয়েডের ফলে নানা রকম চিকিৎসা গ্রহন করে থাকে। তথাপি চিকিৎসকের মতে মানসিক দুঃশ্চিন্তার জন্য দেহে থায়রয়েডের মাত্রা অতিরিক্ত ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। যার ফলে বিভিন্ন রোগ শরীরে বাসা বাধে। তাই বলা যায় মানসিক অবস্থার অবনতি শারিরীক অবস্থার উপর বিপুল প্রভাব ফেলতে পারে। কেউ যখন হীণমন্যতায় ভোগে বা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে তখন সেখান থেকে বেরিয়ে আসার কি কোনো সমাধান রয়েছে ??

হ্যাঁ, আমরা যখন কোনো সমস্যার সম্মুখীন হই তখন আমরা নানা রকম ভুল করি তবে আমাদের বোঝার অক্ষমতা হচ্ছে যেকোনো সমস্যার সমাধান আমাদের মধ্যেই বিদ্যমান থাকে। কিন্তু আমরা হয়তো সেটা উপলব্ধি করতে পারি না আর নয়তো সঠিক সময়ে সেটা উপলব্ধি করে ব্যবহার করতে পারি না। সমাধান : পরিবারের সাহায্যে : জন্মগ্রহনের পর থেকে আমাদের বেশির ভাগ সময় কাটানো হয় পরিবারের সাথে। তাই আমাদের বিষয়ে সবচেয়ে ভালো ভাবে যদি কেউ জেনে থাকে সেটা হচ্ছে পরিবার। বিশেষ করে মা-বাবা। মায়েরা সন্তানদের জন্ম দেওয়ার পাশাপাশি এক অন্যরকম সম্পর্কে আবদ্ধ যার ফলে সন্তানদের কোনো কিছু হলে সবার আগে সেটা মায়েরা উপলব্ধি করতে পারেন। তাই আমরা যখন কোনো কারনে খুব বেশি খারাপ অনুভব করি বা কোনো কাজ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় ভেঙে পড়ি, কোনো কথা ভেবে হীণমন্যতায় ভোগী তখন সবচেয়ে বড় সাহায্য পূর্ণ স্থান হচ্ছে পরিবারে মা- বাবা। অনেকেই আছেন বাবার সাথে কথা বলতে সংকোচ বোধ করে থাকে সেক্ষেত্রে মায়ের সাথে কথা বলা। সেই কথা নিয়ে ভালো-মন্দ আলোচনা করা। সেক্ষেত্রে বিষন্নতা কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে। এমনকি সেই সমস্যার কোনো না কোনো সমাধান অবশ্যই পাওয়া যাবে। কারন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত সন্তানদের কাছে সবচেয়ে ভরসার স্থান হচ্ছে মা। যিনি নিঃস্বার্থ ভাবে সন্তানদের শুভকামনা করে সবসময়। ভাই-বোনের সাহায্যে : বরাবরই আমরা সমবয়সী ভাই-বোনের সাথে সবকিছু খোলাখুলি ভাবে আলোচনা করতে পছন্দ করি। অনেক সময় এমন হয় যে মা-বাবাদের আমরা সব কথা বলতে পারি না। কিন্তু সেটা ভাই-বোনকে খুব সহজেই বলতে পারি। কেননা সমবয়সী ভাই-বোনের সাথে এক প্রকার বন্ধুসুলভ সম্পর্কের সৃষ্টি হয়ে থাকে যার ফলে আমরা যখন কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকি তখন ভাই-বোনের সাথে আলোচনার মাধ্যমেও আমরা সমাধান আশা করতে পারি। আর যদি সমাধান না ও পাওয়া যায় অন্তত প্রয়োজনে সাহায্য করতে হবে সেই কথাটা জানিয়ে রাখতে পারি। কাছের সহপাঠীদের সাহায্যে : যখন আমরা একান্তভাবেই পরিবারের কারো সাথে কথা বলতে পারি না আমাদের সমস্যা নিয়ে। তখন আমরা আমাদের খুব কাছের কিছু সহপাঠী বা বন্ধু-বান্ধবী যারা আমাদের শুভাকাঙ্খী তাদের সাথে মানসিক ভাবে কেন হীণমন্যতায় ভুগছী বা কেন মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছি সেই কথা নিয়ে আলোচনা করতে পারি। কারন সমবয়সী হওতার ফলে তারা আমাদের পরিস্থিতি খুব ভালো ভাবে উপলব্ধি করতে পারে। হতে পারে সেই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসার উপায় তাদের কাছেও থাকতে পারে। চিকিৎসকের সাহায্যে : অনেক সময় আমাদের মানসিক অবস্থার এতটাই অবনতি হয়ে থাকে যার ফলে চিকিৎসকের কাছে থেকে চিকিৎসা গ্রহনের উপদ্রব হয়। অনেক দিন যাবত একটা বিষয় নিজের মধ্যে চেপে রাখা দুঃশ্চিন্তা করা, সেটা নিয়ে হীণমন্যতায় ভোগা, মানসিক ভাবে ভেঙে পড়া একসময় আমাদের শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটায়। তখন আমাদের বিভিন্ন চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হয়। আমরা যখন চিকিৎসকের কাছে যাই তখন যেকোনো চিকিৎসার পূর্বে আমাদের সবরকম সমস্যার কথা চিকিৎসককে জানাতে হয় সেটা হোক শারীরিক বা মানসিক তারপর সেই অনুযায়ী চিকিৎসক চিকিৎসা করে থাকেন। এর ফলে দেখা যায় আমরা আমাদের সব কথা চিকিৎসকের সাথে বিনা সংকোচে বলি এবং চিকিৎসক ওনার সাধ্যমতো যতটুকু সম্ভব সমাধান দিয়ে থাকেন। [ Psychologist ] মনোবিজ্ঞানীর সাহায্যে : যখন আমরা আমাদের মানসিক অবস্থার অবনতির কারন খুব সামান্য বলে কারো সাথে আলোচনা করতে পারি না। কিন্তু এই মানসিক অবস্থার অবসান না করলেই নয় যার ফলে মানসিক বা শারীরিক প্রশান্তি লাভ হচ্ছে না। তখন আমাদের উচিত [ Psychologist ] মনোবিজ্ঞানীর সাহায্য নেওয়া। একজন সফল মনোবিজ্ঞানী যেকোনো মানুষের মনে চেপে রাখা কথা, দুঃশ্চিন্তার কারন যখন জানতে পারে তখনই তিনি উপলব্ধি করতে পারেন যে মানসিক ভাবে এসব কিভাবে এবং কতটা প্রভাব ফেলছে। যেহেতু একজন মনোবিজ্ঞানী মনের চিকিৎসক হিসেবে সবার কাছে পরিচিতি লাভ করে। যার ফলে অনেকেই ভাবতে পারে যে সমস্যা হচ্ছে মানসিক যা মস্তিষ্ক থেকে সৃষ্ট। তবে আমরা এই কথা থেকে খুব কম মানুষই অবগত যে একজন মানুষের মনের সাথে মস্তিষ্ক অতোপ্রতো ভাবে জড়িত। তাই [ Psychologist ] মনোবিজ্ঞানীর সাহায্য নেওয়া খুব একটা ভুল সিদ্ধান্ত নয়। একজন মনোবিজ্ঞানীর কাছে সেই কৌশলটা রয়েছে যার মাধ্যমে সেই মানুষটির মনের কথা কিভাবে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলছে এবং সেই প্রভাবটা কিভাবে কাটানো যায় তিনি সেটা চিহ্নিত করতে পারেন এবং সমাধান ও দিতে পারেন। [ Consultant ] পরামর্শদাতার সাহায্যে : অনেক সময় এমন দেখা যায় যে আমরা আমাদের সমস্যা নিয়ে হয়তো অনেকের সাথেই আলোচনা করে থাকি তবে ঠিক বা প্রয়োজনীয় কোনো পরামর্শ পাইনা। তখন আমাদের উচিত [ Consultant ] পরামর্শদাতার সাহায্য নেওয়া। একজন পেশাদার পরামর্শদাতা মানসিক অবস্থা বিশ্লেষন করে সঠিক পরামর্শ দেওয়ার যোগ্যতা রাখেন। কেননা যখন একজন পরামর্শদাতা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়া, হীণমন্যতায় ভোগা কোনো অসুস্থ ব্যক্তির সাথে কথা বলেন তখন তাদের কৌশল সেই ব্যক্তির ভেতরের সবরকম কথা যাতে বলে সেটার জন্য বাধ্য করেন। এখন অনেকেই ভাবতে পারে হয়তো বিভিন্ন ভাবে চাপ সৃষ্টি করে কথা গুলো বলানো হয়। কিন্তু সেটা একেবারেই নয় কারন সেই [ Consultant ] পরামর্শদাতা তখন এতটাই সংবেদনশীল ও বন্ধুসুলভ আচরন করেন যার ফলে বলা যায় মানসিক ভাবে ভেঙে পড়া, হীণমন্যতায় ভোগা ব্যক্তিটি সেচ্ছায় সেই সব কথা বলতে চায় যার জন্য তিনি দিনের পর দিন অসুস্থতায় পরিনত হচ্ছে।

কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে কী মানসিক অবস্থার অবনতির সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে ??

কাউন্সেলিং এমন একটি বিষয় যা আমাদের সবার করা উচিত। আমরা যত বেশি পরিবারের সাথে ভাই-বোনদের সাথে যে কোনো কথা, কাজ, সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবো ততো বেশি আমরা দুঃশ্চিন্তা করা, ভেঙে পড়া, হীণমন্যতায় ভোগা, খারাপ কাজ করা থেকে বিরত থাকতে পারবো। আমরা অনেক বেশি মোবাইল, ইন্টারনেট, কম্পিউটার, টেকনোলজীর উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছি। ডিজিটাল যুগের সাথে তালে তাল মিলিয়ে চলার যে চাহিদা আমাদের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে সেটা আমাদের মেশিনে পরিবর্তন করে দিয়েছে। যার ফলে আমরা আগের মতো পরিবারের সাথে কথা বলা, সময় কাটানো, ভালো-মন্দ কথা নিয়ে আলোচনা করা, কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে বড় বা গুরুজনদের পরামর্শ নেওয়া, ভাই-বোনদের সাথে খেলা করা, থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছি। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরাও এখন খেলার জন্য বিরক্ত বা উত্তক্ত করেনা। কারন তারা এখন ফোনে আসক্ত। সেখানে বিভিন্ন গেমস, ফানি ভিডিও, কার্টুন দেখে নিজেদের সময় ব্যয় করে। এখন বর্তমান সময় এমন দারিয়েছে সবাই আমরা নিজের সমস্যার সমাধান কোনো আলোচনা ছাড়াই করার চেষ্টা করি। সেক্ষেত্রে দেখা যায় অনেক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তবে বেশির ভাগ সময়ই ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যার ফলে নতুনত্ব সমস্যার সৃষ্টি হয় এমনকি বিপদও বৃদ্ধি পায়।

আমরা যাতে মানসিক ভাবে না ভেঙে পড়ি বা হীণমন্যতায় না ভোগী তার জন্য কি করণীয় ???

▪ আমাদের উচিত সবসময় যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে পরিবারের গুরুজনদের সাথে পরামর্শ করা।
▪ কোনো বিপদের সম্মুখীন হলে সে সম্পর্কে কোনো পদক্ষেপ গ্রহনের পূর্বে পরিবারের সদস্যদের সেই সম্পর্কে অবগত করা।
▪ বাবা-মায়ের উচিত সন্তানদের যতটুকু সম্ভব সময় দেওয়া। অনেক সময় বাবা-মায়ের অবহেলার ফলে সন্তানরা হীণমন্যতায় ভোগে।
▪ একাকীত্ব কাটানোর জন্য মোবাইল, লেপটপ এসবকে সঙ্গী না বানিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটানো, বই পড়া, সাহিত্য চর্চা এসবের মাধ্যমে সময়কে কাজে লাগানো।
▪ বর্তমান সময়ে ছেলে-মেয়ে উভয়ই রান্নায় খুব ভালো পারদর্শী হওয়ার জন্য অবসর সময়ে পরিবারের সদস্যদের জন্য রান্না করে। এটিও মানসিক প্রশান্তি দিয়ে থাকে কারন এর সাথে জড়িত থাকে ইচ্ছা, আবেগ, ভালবাসা।
▪ ছোট ভাই-বোনদের সাথে সময় কাটানো ফলে আমাদেরও সময় ভালো ভাবে কাটবে এবং ছোটরাও মোবাইলে আসক্ত হওয়া থেকে বিরত থাকবে।
▪ প্রত্যেক মানুষের বাড়িতে বৃদ্ধ দাদা-দাদী, নানা-নানী থাকে। হাতে সময় থাকলে ওনাদের সাথে গল্প করা। ফলে ওনারা বৃদ্ধ বয়সে মানসিক প্রশান্তি লাভ করতে পারে।
▪ ভালো সহপাঠীদের সাথে সম্পর্ক রাখা। সেক্ষেত্রে ভালো কাজে নিজেকে নিয়োজিত করা যায়।
▪ ড্রইং বা আর্ট করা, এটি আমাদের মধ্যে থাকা মানসিক স্মরন শক্তিকে ছবিতে প্রকাশ করতে সাহায্য করে। এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছে যারা নিজেদের মানসিক চিন্তার প্রতিবিম্ব হাতে কলমে খাতায় আঁকাআঁকির মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকে।
▪ আমাদের মধ্যে এমন অনেক সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে যা আমরা ভবিষ্যতে নিজেদের পেশা হিসেবে চিহ্নিত করে রাখি। সেই প্রতিভাকে কিভাবে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারি সেই সম্পর্কিত কাজের সাথে নিজেকে জড়িত রাখা।
▪ বিভিন্ন ফুল ও ফলের বাগান করা। কারন এর ফলে মন ভালো থাকে।
▪ মানসিক অবস্থার পাশাপাশি শরীর সাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য কিছু সময় নির্ধারন করে প্রতিদিন যোগা, ব্যায়াম করা যেতে পারে।
▪ বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে নিজেকে ব্যস্ত রাখা। কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকলে কোনো রকম দুঃশ্চিন্তা হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকে।
▪ মন্দ, বেআইনি এবং অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকা। বেশির ভাগ সময় ছেলে-মেয়েরা খারাপ কাজে লিপ্ত হওয়ার পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টায় যখন ব্যর্থ হয় তখন তারা মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে, আচরনে পরিবর্তন আসে ও হীণমন্যতায় ভোগে।

উপসংহার...

জীবনে চলার পথে নানা রকম বাধাঁ, বিপদ, কষ্ট আসবে সেটাই মূলত স্বাভাবিক। আর এই স্বাভাবিক জিনিসটা মেনে নিয়ে আমাদের জীবনকে সুন্দর করে তোলার লড়াই আমাদেরই লড়তে হবে। কারন এসব আমাদের জীবনকে শুধুমাত্র ব্যস্ত ও বিচলিত করে। তাই আমরা যদি একবার আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তন করি তাহলেই উপলব্ধি করতে পারবো যে জীবন কতটা সুন্দর, যা সবাই পায় না, সেটা আমরা পেয়েছি তাতেই আমরা পরম সৌভাগ্যের অধিকারি বাকি সব ঠুনকো বিষয়। ঠিক এখানেই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তন করতে হবে। যার ফলে আমরা যে কোনো কারনেই হোক না কেন কখনোই মানসিক ভাবে ভেঙে না পড়ে দুর্বল না হয়ে কঠিন সময় গুলোতে যে কোনো সমস্যা খুব সহজেই সমাধান করতে পারবো।

Next Page

Home Page