Knock us for your business/company articles/content & SEO: 01823-660266

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও বর্তমান পরিস্থিতি:

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও বর্তমান পরিস্থিতি:

বর্তমান [ করোনা ] পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম:

ভূমিকা ...

বাংলাদেশে প্রাথমিকভাবে তিন স্তরের শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে- প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা। প্রতিটি স্তর আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু সাম্প্রতিক শিক্ষা ব্যবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মৌলিক বিষয়গুলো অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রাথমিক পর্যায় থেকে যে মৌলিক বিষয়গুলো শেখা উচিত সেগুলো ক্রমশই বিলুপ্ত হচ্ছে । শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শেখার পদ্ধতি পরিবর্তন হচ্ছে, আমাদের সঠিক পথে জীবনযাত্রার মান কমে এসেছে এমনকি বাস্তবতা সম্পর্কে আমাদের উপলব্ধি হ্রাস পাচ্ছে, যেখানে মুখস্থ করাটাই কেবল প্রাধান্য পেয়েছে। খুব কম শিক্ষার্থী আছে যারা স্বেচ্ছার সহিত স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে পড়াশোনার সাথে জীবনে এগিয়ে যায়।

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য কয় ধরণের স্কুল রয়েছে ??

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য তিন ধরণের স্কুল রয়েছে । যেখানে শিক্ষার্থীদের ইচ্ছা, আগ্রহ, যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধা অনুযায়ী প্রতিষ্টান বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে । স্কুল গুলো হলো: ইংরেজি মাধ্যম, বাংলা মাধ্যম এবং ধর্মীয় বিদ্যালয় । এই তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহন করে থাকে।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো লিঙ্গ সমতা রয়েছে ?

শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশ লিঙ্গ সমতা অর্জন করেছে ২০১৬ সালে এমনকি নথিভুক্তও করা হয়েছে । যার মধ্যে ৫০.৯ শতাংশই ছিল বালিকা শিক্ষার্থী । বলা যায়বালকদের পাশাপাশি বালিকারাও শিক্ষাক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো যে তারপরও বাংলাদেশের শিক্ষার মান নিম্ন ।

শিক্ষার্থীদের উপর শিক্ষাব্যবস্থার প্রভাব:

প্রাথমিক স্তর ..
বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাচ্চাদের জন্য সরকার নানা রকম সুবিধা প্রদান করছে । তার মধ্যে সবচেয়ে উপকারি হচ্ছে উপবৃত্তি প্রদান । প্রাইমারিতে যেসব শিক্ষার্থীরা পড়ে তার মধ্যে ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর পরিবার খেটে খাওয়া মানুষ । দিন আনে দিন খায় । সেই ক্ষেত্রে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা পড়াশুনায় সময় খুব কম ব্যয় করে এবং পরিবারের মানুষের সাথে তারাও কর্মস্থলে যোগ দেয়।
মাধ্যমিক স্তর ..
মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা যে সময়টা হাতে পায় সেই সময়টায় তাদেরকে এমন কিছু বিষয়ের ওপর আয়ত্ত ও দক্ষতা অর্জন করা উচিত যাতে ভবিষ্যতে উচ্চতর অধ্যয়ন করতে কোনো রকম সমস্যা না হয় । আর এটা একমাত্র অধ্যয়নরত প্রতিষ্ঠান থেকেই সম্ভব। এখানে নিশ্চিত করতে হবে যে কিভাবে বারতি বই কমিয়ে প্রয়োজনীয় বিষয়ের ওপর মনোনিবেশ করা যায় ।
উচ্চ স্তরের ...
এই সময় পড়াশুনার পাশাপাশি যদি শিক্ষার্থীরা নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারে তাহলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটা রয়েছে – বেকারত্ব সেটা ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে । তাই উচিত এই সময় থেকে তাদের বিভিন্ন চাকরি করার সুযোগ দেওয়া । কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থা থেকে বিভিন্ন অফিসিয়াল সেক্টরে ইন্টার্ন হিসেবে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য পাঠানো এবং সেটা হতে পারে সরকারি বা বেসরকারি যে কোনো প্রতিষ্টানে ।

বর্তমান [ করোনা ] পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম:

শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস বা পরীক্ষা নিয়ে যে তিনটি প্রধান সমস্যার সম্মুখীন
হতে হয় সেগুলি হল:
1. Android phone [ অ্যান্ড্রোয়েড ফোন ] 2. Mb purchase [ এমবি বা মেগাবাইট
ক্রয় ] 3. Internet buffering problem [ ইন্টারনেট বিগ্নতার সমস্যা ]
1. আমাদের মধ্যে এমন অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে যাদের কাছে [Android phone ] নেই। যদিও পরিক্ষার জন্য তারা কোনো না কোনো ভাবে একটা [Android phone ] যোগার করে নিতে পারবে । হয়তো বাবা-মা পরিক্ষা দেওয়ার জন্য শত কষ্টের মাঝেও একটা [ Android phone ] ক্রয় করে দেওয়ার চেষ্টা করবেন । তবে যে টাকা দিয়ে ক্রয় করবেন সেই টাকাটা হয়তো তাদের এক সপ্তাহের খাবারের খরচ । অনেকের পরিবারের আয় খুবই সীমিত, দিন মজুর, কৃষক, শ্রমিক, দিন আনে দিন খায় এমনও অনেক পরিবার রয়েছে সেটা আমাদের কারোরই অজানা নয় । সেই ক্ষেএে তাদের পরিবারের ধার-কর্জ করে কিছু করাটা তাদের অনেক দিনের ভোগান্তির কারন হতে পারে।বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজের শিক্ষার্থীরা হয়তো কোনো না কোনো ভাবে একটা [ Android phone ] যোগার করে নিতে পারবে । তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কিভাবে Android phone পাবে যেখানে তাদের পরিবার দরিদ্র সীমার
2. দ্বিতীয় সমস্যা হলো MB বা মেগাবাইট ক্রয় করা । যাদের দিন আনতে পানতা ফুরোয় তাদের জন্য MB ক্রয় করে পরিক্ষা, নিজের পেটে নিজেই লাথি দেওয়া অবস্থার সম্মুখীন হওয়ার মতো । অনেকের বাসায় ওয়াইফাই [ WIFI – Wireless Fidelity ] সংযোগ রয়েছে তাই বলে সবার সেরকম সামর্থ্য নাও থাকতে পারে । এমনকি এসবের জন্য গ্রামান্চলে সুযোগ-সুবিধা নেই বললেই চলে ।
3. বেশিরভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয় গ্রামে অবস্থিত এমনকি গ্রামে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীও কম নেই । বিশ্ববিদ্যালয়ে যে শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করে তাদের মধ্যে ৭০-৮০ ভাগ শিক্ষার্থী গ্রামে থাকেন । সেক্ষেত্রে শহরে ইন্টারনেট সংযোগ খুব ভালো সার্ভিস দিয়ে থাকলেও অপরদিকে গ্রামে ইন্টারনেট সংযোগের অবস্থা খুবই খারাপ । আর যদি কোনো ভাবে ঝড়-তুফানের উপক্রম হয় তাহলে এমনো সময় আসে যেখানে ১-২ দিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকে । এখন যদি বিদ্যুৎ না থাকে তাহলে ফোন কিভাবে চার্জ করবে আর পরিক্ষাই বা কিভাবে দিবে । যদিও সব সমস্যা সমাধানকল্পে পরিক্ষায় অংশগ্রহন করে তাহলে সময় মতো লিখে জমা দেওয়ারএকটা সমস্যা থেকেই যায় । তাছারা অনলাইনের মাধ্যমে পরিক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারেনা এমন শিক্ষার্থী
রয়েছে ৩০ ভাগেরও বেশি ।

বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে বড় চ্যালেঞ্জসমূহ:

শিক্ষকদের ক্ষেত্রে:

▪ যোগ্য শিক্ষকের অধীন
▪ শিক্ষক তদারকি ।
▪ নিরীক্ষণ এবং জবাবদিহিতার শক্তির অভাব।
▪ শিক্ষার্থী সম্পর্কে শিক্ষকদের সচেতন থাকা

শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে:

▪ অপ্রতুল অবকাঠামো।
▪ শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় মনোযোগী করানো।
▪ ভালোভাবে রিডিং শেখানো ।
▪ ইংরেজী বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানো। ▪ প্রতিটা ক্ষেত্রে নিজেকে উপস্থাপন করার জন্য জড়তা কাটিয়ে তাদের দুর্বলতাকে দমন করার পদ্ধতি প্রনয়ন।
▪প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থা থেকে সব রকম খেলাধুলায় পারদর্শি হতে সুযোগ করে দেওয়া এবং উৎসাহ দেওয়া ।
▪ প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকে আত্মরক্ষা সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষন নিশ্চিত করা ।যেমন: ক্যারাটে
▪ দুর্বল পুষ্টি এবং খাদ্য সুরক্ষা… এসবই শিক্ষাকে প্রভাবিত করে।
▪ এবং সর্বোপরি লকডাউন চলমান অবস্থায় অন্যান্য ক্ষতিকর দিকে মন না দিয়ে নিজ দায়িত্বে গৃহ শিক্ষক বা সিনিয়রদের নিকট হতে নিজ পাঠ্যবইসমূহ নিজ কক্ষে অবস্থান করে পড়ে মুখস্থ করে ফেলতে হবে। আমরা জানি ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড’ আর ‘সু-শিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত’। তাই জাতির মেরুদন্ডকে মজবুত ও বলিষ্ঠ রাখতে আমাদের নিজেদেরকেই নিজেদের মত করে ‍সু-শিক্ষিত হতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের করনীয়:
সমস্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বিষয়ভিত্তিক বই পড়ার পাশাপাশি যেগুলো জীবনে ও চাকুরিক্ষেত্রে সাহায্য করবে সেগুলো রাখা উচিত । আগে থেকে চাকুরিক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বইগুলো সর্ম্পকে ধারনা থাকলে পরবর্তিতে কোনো প্রাইভেট বা কোচিং সেন্টারে আলাদা করে পড়তে যেতে হবে না । বাংলাদেশের সকল উচ্চ মাধ্যমিক এবং স্নাতকোত্তর কলেজগুলিতে আইসিটি কোর্স চালু করা এবং কম্পিউটার শিক্ষা প্রেকটিক্যালি করানো যাতে শিক্ষার্থীদের আলাদা কোনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কম্পিউটার শিখতে না হয় অর্থ ব্যয় করে । ফলস্বরূপ, অনেক শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়নরত সময় থেকে কম্পিউটারের মাধ্যমে খণ্ডকালীন চাকরি করে বেকারত্ব কমাতে পারে।

মানসম্মত শিক্ষার বৈশিষ্ট্যসমূহ:

মূলত ছয়টি মৌলিক উপাদান সবসময় শিক্ষার মানকে প্রভাবিত করে।
1) ভালো ও দক্ষ শিক্ষক দ্বারা সুন্দর পাঠদান পদ্ধতি।
2) যেকোনো শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা।
3) উন্নত-শৃঙ্খলা সম্পন্ন পরিবেশ শেখার জন্য।
4) সঠিক পদ্ধতিতে স্কুল পরিচালনা।
5) শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত নিয়ম-নিতী ও পূর্বশর্ত প্রনয়ন ।
6) একটি সুশৃঙ্খল সংস্থা এবং তহবিল ।

উপসংহার..

অবশেষে বলা যায়, শিক্ষা ব্যবস্থায় কিছুটা পরিবর্তন বর্তমান সময়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাপনা এবং অধ্যয়ন কার্যক্রম এভাবে অচল লকডাউন অবস্থার মধ্যে চলমান থাকলে শিক্ষা স্রোতধারার নদীতে শেওলা পতিত হয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হবে। তাই, যার যার পক্ষ থেকে নিজ দায়িত্বে নিজের পড়াশোনা মান ঠিক রাখতে হবে। এজন্য আমাদের শিক্ষা ও ক্যারিয়ার সম্পর্কিত ওয়েব পোর্টাল সেলটুআর্ন ডটকম (selltoearn.com) এ নিয়মিত চোখ রাখতে পারেন। এর পাশাপাশি অন্য আর একটি বিষয়- বেকারত্ব হ্রাস করতে হলে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন । শিক্ষার্থীরা যদি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পর্কিত সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পায় তাহলে পরবর্তিতে যে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করলে সেখানে অভিজ্ঞতার জন্য কোনো রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না ।

Next Page

Home Page